যেকোনো প্রকারে পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু এই দখল করা যে খুব সহজ হবে না সেটা তারা জানে। সেই জন্য তাদের কাছে বিভিন্ন রণকৌশল তৈরি আছে। অমিত শাহের উপস্থিতিতে প্রথম দফার লিস্ট তৈরি হয়ে গেছে বল সুত্রের খবর।
বিজেপি যে সমস্ত বিধানসভায় জয় লাভ করে আছে সেইসব বিধানসভার প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে গেছে। কিছু প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কিছু প্রার্থীর জায়গা বদল করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রথম দফায় ১২০ টি আসনের প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য অমিত শাহের উপস্থিতিতে একটা খসড়া তালিকা তৈরি হয়ে গেছে। এই ১২০ টি আসনের মধ্যে বিজেপির জয়ী আসন ছাড়াও যেখানে বিজেপি এক থেকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছে সেই সমস্ত আসনকে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ১২০ টি আসনের লিস্ট জানুয়ারি মাসের লাস্টেই তৈরি হয়ে যাবে। আর তৃতীয় দফার ৫৪ টি আসন ফেব্রুয়ারি মাসেই তৈরি হয়ে যাবে বলে সূত্রের খবর।এখন প্রশ্ন তাহলে কি বনগাঁ উত্তর দক্ষিণ বিধানসভার প্রার্থী বদল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে সেই রকমই শোনা যাচ্ছে। তার কারণ এই দুই প্রার্থীকে নিয়ে SIR এ বিরম্বনার মধ্যে পড়ে গেছে বিজেপি।
বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক স্বপন মজুমদারের ২০০২ সালে ভোটার লিস্টের নাম নেই। অপরদিকে বনগাঁ উত্তর বিধানসভার বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার পরিবারের লোকজনের নাম নেই ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে। এই দুই কারণেই বিজেপি খুবই সমস্যায় পড়েছে। তাছাড়া বনগাঁ উত্তর বিধানসভার বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার নিজের বিধানসভায় তার জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। বিজেপির পুরনো কর্মীদের সঙ্গে তার বিবাদ চরণে উঠেছে। বনগাঁ উত্তর বিধানসভার যে সমস্ত বর্ষিয়ান বিজেপির নেতৃত্ব আছেন তাদের সঙ্গে অশোক কীর্তনীয়ার বনিবনা নেই ।
তাছাড়া প্রাক্তন সভাপতি দেবদাস মন্ডল ও জেলার প্রাক্তন সহ-সভাপতি জ্ঞান প্রকাশ ঘোষের সঙ্গে বিবাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তাছাড়া ২০২১ সালে যার কৃপায় তিনি বনগাঁ উত্তর বিধানসভার প্রার্থী হতে পেরেছিলেন সেই শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে তার একদমই সখ্যতা নেই। এমত অবস্থায় অশোক কীর্তনীয়া কে নিয়ে দল যে বিড়ম্বনা মধ্যে আছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিগত পাঁচ বছরের অশোক কীর্তনীয়া সাফল্য বলতে একটাই নিজের ওয়ার্ড থেকে নিজেকে বারে বারে গো ব্যাক স্লোগান শুনতে হয়েছে পার্টির কর্মসূচি করতে গিয়ে। নিজের ওয়ার্ডে পাঁচজন কর্মীকে এখনো সক্রিয় করতে পারেনি বিগত পাঁচ বছরে। এটাই তার সাফল্য।
তাই এই সমস্ত সমস্যা সমাধানের জন্য বিজেপি একটা রাস্তা বের করেছে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে। অশোক কীর্তনীয়া হয়তো টিকিট নাও পেতে পারে। আর যদি দল তাকে টিকিট দেয়ও সেটা হয়তো পাশের কোনো বিধানসভায় দিতে পারে।
অশোক কীর্তনীয়াকে বনগাঁ উত্তর বিধানসভায় টিকিট দিলে কর্মীদের বিক্ষোভের কারণে এই বিধানসভা বিজেপির পরাজয় ঘটতে পারে। যেকোনো একজন কলাগাছ কে দাঁড় করালেও উত্তর বিধানসভা থেকে বিজেপি জিতবে। অশোক কীর্তনীয়া প্রার্থী হলে বিজেপিকে হারের মুখ দেখতে হতে পারে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, অশোক কীর্তনীয়াকে হয়তো বাগদা থেকে প্রার্থী করা হতে পারে এবার। তার কারণ ২০২১ সালে অশোক কীর্তনিয়া কে বাগদা থেকেই প্রার্থী করার কথা চলছিল। বনগাঁ থেকে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল বিশ্বজিৎ দাসের। কিন্তু বনগাঁর দুই জেলা নেতা দেবদাস মন্ডল ও জ্ঞানঘোষের বিরোধ করার কারণে ২০২১ সালে বিশ্বজিৎ দাস কে বাগদায় প্রার্থী করা হয় ও অশোক কীর্তনীয়াকে বনগাঁ উত্তরের প্রার্থী করা হয়।
তাইতো অশোক কীর্তনীয়াকে এবার বাগদা বিধানসভা থেকে প্রার্থী করা হতে পারে। আর বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক স্বপন মজুমদারকে হয়তো অন্য কোন বিধানসভার কথা বলা হতে পারে লড়াই করার জন্য। এক্ষেত্রে স্বপন মজুমদার এর প্রথম পছন্দ হতে চলেছে হাবরা বিধানসভা। বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভায় প্রার্থী হতে পারেন বাগদা উপনির্বাচনের বিজেপির টিকিটে দাঁড়ানোর বিনয় বিশ্বাস।
আর বনগাঁ উত্তর বিধানসভার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা গোবিন্দ বিশ্বাসের।
এই প্রকার একটা ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, বিজেপি রনকৌশল তৈরি করেছে , এটা থেকে পুরস্কার বিজেপি বনগাঁ লোকসভায় সাতটা বিধানসভায় জয়ী হতে চাইছে। হরিণঘাটা বিধানসভায় অসীম সরকারের সাথে কর্মীদের যে মনোমালিন্য তৈরি হয়েছিল কুরআন নিয়ে অসীম সরকারের মন্তব্য তাকে অনেকটাই অক্সিজেন যুগিয়েছে।
অসীম সরকার কে পশ্চিমবঙ্গর যে কোন জায়গা থেকে ভোটে দাঁড়ালে তিনি জয়লাভ করবেন।
গাইঘাটা বিধানসভা থেকে হয়তো সুব্রত ঠাকুর পুনরায় প্রার্থী হতে পারেন। কল্যাণী বিধানসভার অম্বিকা রায় কে দেবেন বা অন্য কাউকে প্রার্থী করবে সেটা দল এখনো ঠিক করে উঠতে পারছে না। তবে এক্ষেত্রে হয়তো অম্বিকা রায় কে হরিণঘাটা ও অসীম সরকারকে অন্য কোথাও প্রার্থী করার সম্ভাবনা আছে। স্বরুপনগর বিধানসভায় পুনরায় বৃন্দাবন সরকারকে প্রার্থী করা হতে পারে। তবে বাগদা বিধানসভায় দুলাল বরকে প্রার্থী করা না হলে তিনি যে নির্দল প্রার্থী হবেন সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
এখন দেখা যাক দল এই সমস্যার কিভাবে সমাধান করে।
No comments:
Post a Comment