১) সুতি বিধানসভা,২) জঙ্গিপুর বিধানসভা, ৩) রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভা, ৪) লালগোলা বিধানসভা, ৫) সাগরদিঘী বিধানসভা, ৬) নবগ্রাম বিধানসভা, ৭) খরগ্রাম বিধানসভা।
এই বিধানসভা গুলির মধ্যে অন্যতম জঙ্গিপুর বিধানসভা, খরগ্রাম বিধানসভা ও নবগ্রাম বিধানসভায় বিজেপি শাসক দল তৃণমূলকে জোর লড়াইতে ফেলে দিতে পারে ২০২৬ এ।
এছাড়া সাগরদিঘী বিধানসভায় উপনির্বাচনে কংগ্রেসের জয়, তারপর জয়ী বিধায়ক বায়রণ বিশ্বাস তৃণমূলে যোগদান করায় এই বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
২০২১ শে বিধানসভা নির্বাচনে খরগ্রাম বিধানসভায় বিজেপি ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
নবগ্রাম বিধানসভায় পেয়েছিল ৩১ শতাংশ ভোট। এছাড়া জঙ্গিপুর বিধানসভায় প্রায ৩০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পেয়েছিল। এখানে গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এগিয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সঠিকভাবে SIR হলে জঙ্গিপুর লোকসভার মধ্যে যে সাতটি বিধানসভা আছে ২০২৬ শে বিধানসভা নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে সরাসরি।
সে ক্ষেত্রে সুতি বিধানসভা ও সাগরদিঘী বিধানসভায় প্রচুর ভোট বাদ যেতে পারে। যে ভোটের বেশিরভাগটাই হলো শাসক দল তৃণমূলের। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৮৫টি বিধানসভায় SIR সঠিকভাবে হলে ২৬ শে ভোটের ফলাফলের উপরে প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে জঙ্গিপুর লোকসভার মধ্যে যে সাতটি বিধানসভা আছে তার মধ্যে ৬টি বিধানসভায় সরাসরি প্রভাব পড়তে বাধ্য।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলাফলের উপর একটু আলোকপাত করা যাক।
১) সুতি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ঈমানী বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৫১ ভোট। আর বিজেপির কৌশিক দাস পেয়েছিলেন ৫৬ হাজার ৬৫০ ভোট। এখানে বিজেপি প্রায় ২৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল হয়তো পুনরায় ঈমানী বিশ্বাসকে প্রার্থী করবেন।
বিজেপি হয়তো কৌশিক দাসকে প্রার্থী করলেও করতে পারে। তবে একজন জেলা বিজেপি সহ-সভাপতি কথা শোনা যাচ্ছে। তিনি বিনায়ক চ্যাটার্জী । এখানে টিকিটের দৌড়ে তিনিও আছেন।
২) সাগরদিঘী বিধানসভায় রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা নোংরা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
২০২৩ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনে এই বিধানসভা মানুষের তিক্ত অভিজ্ঞতা অনেক শিক্ষা দিয়েছে তাদের কে।
তৃণমূলের সুব্রত সাহার মৃত্যুর কারণে এখানে যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২৩ সালে সেখানে তৃণমূলের হয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন দেবাশীষ ব্যানার্জি। তিনি কংগ্রেসের বায়রন বিশ্বাস এর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।
অপরদিকে সেই বায়রন বিশ্বাস জয়লাভ করার পরে তিনিও উল্টে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। বায়রন বিশ্বাসের এই যে দলবদল এখানকার মানুষ মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল এখানে জয়লাভ করেছিল প্রায় ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে। সুব্রত সাহা ৯৫ হাজার ১৮৯ ভোট পেয়েছিলেন। আর বিজেপির মাহফুজা খাতুন পেয়েছিল ৪৪ হাজার ৯৮৩ ভোট।
২৩ এর উপনির্বাচনে বিজেপি এখানে ভোট পেয়েছিল ২৫৮১৫ ভোট। বিজেপির ভোট কম পড়ার কারণ ছিল দলমত নির্বিশেষে সমস্ত দল মিলে একত্রিত হয়ে সেদিন বায়রন বিশ্বাসকে ভোটে জয়লাভ করিয়েছিলেন। কংগ্রেস সিপিএম বিজেপি একত্রিত ভোট পেয়েছিল বায়রন বিশ্বাস।
এবার ২৬-এ বিধানসভায় তৃণমূল এখানে কাকে প্রার্থী করে সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন। তবে সূত্রের খবর বায়রন বিশ্বাসকে পুনরায় এখানে প্রার্থী করা হবে। তবে দেবাশীষ ব্যানার্জিও প্রার্থীর দৌড়ে আছেন।
এখানে বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমে যে নামটি উঠে আসছে তিনি হলেন সমাজসবী ও শিক্ষক গৌতম কুমার দাসের নাম।
তিনি বালিয়া হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক। এর আগে তিনি এই স্কুলের TIC ছিলেন।
এছাড়া একজন জেলা সম্পাদক প্রার্থী দৌড়ে আছে বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি মনোতোষ ঘোষ। যদিও তিনি এই বিধানসভার ভোটার নন ।
এই বিধানসভা তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৭ শতাংশ।
৩) নবগ্রাম বিধানসভায় ২০২১ সালে তৃণমূল প্রায় এক লাখের উপরে ভোট পেয়েছিল। মোট পোলিং ভোটের ৪৮ শতাংশ ভোট তাদের দখলে ছিল। তৃণমূলের কানাই চন্দ্র মন্ডল তিনি জয়ী হয়েছিলেন। আর বিজেপির হয়ে মোহন হালদার ৬৪৯২২ ভোট পেয়েছিলেন। বিধানসভা ভোটের কিছুদিন পরেই মোহন বাবু তৃণমূলের যোগদান করেন।
এখানে শাসক দল তৃণমূল হয়ে এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন কানাই বাবু।
তবে বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে যে নামটি প্রথমে উঠে আসছে তিনি হলেন মানিক সরকার। বেশিরভাগ বিজেপি কর্মী সমর্থকরা তাকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। এই বিধানসভা তৃণমূল জয়ের সম্ভাবনা ৬২শতাংশ. তবে এখানে এস আই আর হলে অনেক গল্প পাল্টে যাবে।
৪) ২০২১ সালে লালগোলা বিধানসভায় তৃণমূলের আলী মহম্মদ পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৭৮৬০ ভোট। আর কংগ্রেসের আবু হেনা পেয়েছিলেন ৪৭ হাজার ১৫৩ ভোট। বিজেপির কল্পনা ঘোষ পেয়েছিলেন ২৯ হাজার ৪৬৪ ভোট।
এখান থেকে তৃণমূল কাকে প্রার্থী করবে এখনো ঠিক করে উঠতে পারিনি। তবে বেশ কয়েকটি নাম চর্চায় আছে।
বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমে যে নামটি উঠে এসেছে তিনি হলেন অজয় হালদার। তিনি একজন হাই স্কুলের শিক্ষক। সর্বপরি তিনি একজন বিজেপি পরিবারের সন্তান। তাদের পরিবারের পরিচিতি তারা বিজেপি। তাইতো এই বিধানসভার বেশিরভাগ কর্মী সমর্থকরা তাকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন এখান থেকে। এই বিধানসভা তৃণমূলের জয় সম্ভাবনা ৭২ শতাংশ।
৫) রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভায় ২০২১ সালে বিজেপি খুবই সামান্য ভোট পেয়েছিল। গোলাম মডাশ্বের (Golam Modaswer ) ২৮৫২১ ভোট পেয়েছিলেন। আর তৃণমূলের আখরুজ্জামান পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৩৪ ভোট। এই বিধানসভায় তৃণমূলের জয় সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ।
এখান থেকে তৃণমূল হয়তো পুনরায় আখরুজ্জামান কে প্রার্থী করবে। বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে যুবনেতা রাহুল ঘোষের নাম শোনা যাচ্ছে।
৬) জঙ্গিপুর বিধানসভা নির্বাচনে এখানে তৃণমূলের জাকির হোসেন পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৪৪ ভোট। বিজেপির সুজিত দাস পেয়েছিল ৪৩ হাজার ৯৬৪ ভোট। গত লোকসভা ভোটে এখানে খুব ভালো ফল হয়েছিল বিজেপির।
তৃণমূল হয়তো জাকির হোসেনকে পুনরায় এখান থেকে প্রার্থী করবেন। বিজেপি হয়তো মাফুজা খাতুন কে এখান থেকে প্রার্থী করতে পারে।
৭) ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে খরগ্রাম বিধানসভা থেকে তৃণমূলের আশিশ মার্জিত ৯৩ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়েছিল।
বিজেপির আদিত্য মৌলিক পেয়েছিল ৬০ হাজার ৬৮২ ভোট। এখান থেকে বিজেপি প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
শাসক দল তৃণমূল এখান থেকে পুনরায় আশিস বাবুকে প্রার্থী করবেন হয়তো।
বিজেপিও হয়তো আদিত্য মৌলিককে প্রার্থী করবেন।
এই যে ফলাফল বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় জঙ্গিপুর লোকসভা তৃণমূলের শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে এখানে SIR হলে বিভিন্ন বিধানসভায় তার প্রভাব পড়তে বাধ্য।
No comments:
Post a Comment