Thursday, 9 October 2025

জঙ্গিপুর লোকসভার মধ্যে ২০২৬ শে তিনটি বিধানসভায় বিজেপি জোর লড়াই দেবে তৃণমূল কে।

কল্পতরু মিশ্র, দক্ষিণ বঙ্গ সংবাদ, জঙ্গিপুর - গত লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গিপুর লোকসভার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে একটা তথ্য পরিষ্কার উঠে আসছে  এবার জঙ্গিপুর লোকসভার মধ্যে যে সাতটি বিধানসভা আছে তার মধ্যে তিনটি বিধানসভায় বিজেপি জোর লড়াই দেবে শাসক দল তৃণমূলকে।
১) সুতি বিধানসভা,২) জঙ্গিপুর বিধানসভা, ৩) রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভা, ৪) লালগোলা বিধানসভা, ৫) সাগরদিঘী বিধানসভা, ৬) নবগ্রাম বিধানসভা, ৭) খরগ্রাম বিধানসভা। 
 এই বিধানসভা গুলির মধ্যে অন্যতম জঙ্গিপুর বিধানসভা, খরগ্রাম বিধানসভা  ও নবগ্রাম বিধানসভায় বিজেপি শাসক দল তৃণমূলকে জোর লড়াইতে ফেলে দিতে পারে ২০২৬ এ। 
 এছাড়া সাগরদিঘী বিধানসভায় উপনির্বাচনে কংগ্রেসের জয়, তারপর জয়ী বিধায়ক বায়রণ বিশ্বাস তৃণমূলে যোগদান করায় এই বিধানসভায়  ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। 

২০২১ শে বিধানসভা নির্বাচনে খরগ্রাম বিধানসভায় বিজেপি ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
 নবগ্রাম বিধানসভায় পেয়েছিল ৩১ শতাংশ ভোট। এছাড়া জঙ্গিপুর বিধানসভায় প্রায ৩০ শতাংশের  কাছাকাছি ভোট পেয়েছিল। এখানে গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এগিয়েছিল। 
 রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সঠিকভাবে SIR হলে জঙ্গিপুর লোকসভার মধ্যে যে সাতটি বিধানসভা আছে ২০২৬ শে বিধানসভা নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে সরাসরি। 
 সে ক্ষেত্রে সুতি বিধানসভা ও সাগরদিঘী বিধানসভায় প্রচুর ভোট বাদ যেতে পারে। যে ভোটের বেশিরভাগটাই হলো শাসক দল তৃণমূলের। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৮৫টি বিধানসভায় SIR সঠিকভাবে হলে  ২৬ শে ভোটের ফলাফলের উপরে প্রভাব পড়তে পারে। 
 বিশেষ করে জঙ্গিপুর লোকসভার মধ্যে যে সাতটি বিধানসভা আছে তার মধ্যে ৬টি বিধানসভায় সরাসরি প্রভাব পড়তে বাধ্য। 
 ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলাফলের  উপর একটু আলোকপাত করা যাক। 
১)  সুতি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ঈমানী বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৫১ ভোট। আর বিজেপির কৌশিক দাস পেয়েছিলেন ৫৬ হাজার ৬৫০ ভোট। এখানে বিজেপি প্রায় ২৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। 
 ২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল হয়তো পুনরায় ঈমানী বিশ্বাসকে প্রার্থী করবেন। 
 বিজেপি হয়তো কৌশিক দাসকে প্রার্থী করলেও করতে পারে। তবে একজন জেলা বিজেপি সহ-সভাপতি কথা শোনা যাচ্ছে। তিনি বিনায়ক চ্যাটার্জী । এখানে টিকিটের দৌড়ে তিনিও আছেন। 
২) সাগরদিঘী বিধানসভায় রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা নোংরা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। 
২০২৩ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনে এই বিধানসভা মানুষের তিক্ত অভিজ্ঞতা অনেক শিক্ষা দিয়েছে তাদের কে। 
 তৃণমূলের সুব্রত সাহার মৃত্যুর কারণে এখানে যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২৩ সালে সেখানে তৃণমূলের হয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন দেবাশীষ ব্যানার্জি। তিনি কংগ্রেসের বায়রন বিশ্বাস এর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। 
 অপরদিকে সেই বায়রন বিশ্বাস জয়লাভ করার পরে তিনিও উল্টে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। বায়রন বিশ্বাসের এই যে দলবদল এখানকার মানুষ মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল এখানে জয়লাভ করেছিল প্রায় ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে। সুব্রত সাহা ৯৫ হাজার ১৮৯ ভোট পেয়েছিলেন। আর বিজেপির মাহফুজা খাতুন পেয়েছিল ৪৪ হাজার ৯৮৩ ভোট। 
 ২৩ এর উপনির্বাচনে বিজেপি এখানে ভোট পেয়েছিল ২৫৮১৫ ভোট। বিজেপির ভোট কম পড়ার কারণ ছিল দলমত নির্বিশেষে সমস্ত দল মিলে একত্রিত হয়ে সেদিন বায়রন বিশ্বাসকে ভোটে জয়লাভ করিয়েছিলেন। কংগ্রেস সিপিএম বিজেপি একত্রিত ভোট পেয়েছিল বায়রন বিশ্বাস। 
 এবার ২৬-এ বিধানসভায় তৃণমূল এখানে কাকে প্রার্থী করে সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন। তবে সূত্রের খবর বায়রন বিশ্বাসকে পুনরায় এখানে প্রার্থী করা হবে। তবে দেবাশীষ ব্যানার্জিও প্রার্থীর দৌড়ে আছেন। 
 এখানে বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমে যে নামটি উঠে আসছে তিনি হলেন সমাজসবী ও শিক্ষক গৌতম কুমার দাসের নাম। 
তিনি বালিয়া হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক। এর আগে তিনি এই স্কুলের TIC ছিলেন। 
 এছাড়া একজন জেলা সম্পাদক প্রার্থী দৌড়ে আছে বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি মনোতোষ ঘোষ। যদিও তিনি এই বিধানসভার ভোটার নন । 
 এই বিধানসভা তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৭ শতাংশ।
৩) নবগ্রাম বিধানসভায় ২০২১ সালে তৃণমূল প্রায় এক লাখের উপরে ভোট পেয়েছিল। মোট পোলিং ভোটের ৪৮ শতাংশ ভোট তাদের দখলে ছিল। তৃণমূলের কানাই চন্দ্র মন্ডল তিনি জয়ী হয়েছিলেন। আর বিজেপির হয়ে মোহন হালদার ৬৪৯২২ ভোট পেয়েছিলেন। বিধানসভা ভোটের কিছুদিন পরেই  মোহন বাবু তৃণমূলের যোগদান করেন। 
 এখানে শাসক দল তৃণমূল হয়ে এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন কানাই বাবু। 
 তবে বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে যে নামটি প্রথমে উঠে আসছে তিনি হলেন মানিক সরকার। বেশিরভাগ বিজেপি কর্মী সমর্থকরা তাকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। এই বিধানসভা তৃণমূল জয়ের সম্ভাবনা ৬২শতাংশ. তবে এখানে এস আই আর হলে অনেক গল্প পাল্টে যাবে। 
৪) ২০২১ সালে লালগোলা বিধানসভায় তৃণমূলের আলী মহম্মদ পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৭৮৬০ ভোট। আর কংগ্রেসের আবু হেনা পেয়েছিলেন ৪৭ হাজার ১৫৩ ভোট। বিজেপির কল্পনা ঘোষ পেয়েছিলেন ২৯ হাজার ৪৬৪ ভোট।
 এখান থেকে তৃণমূল  কাকে প্রার্থী করবে এখনো ঠিক করে উঠতে পারিনি। তবে বেশ কয়েকটি নাম চর্চায় আছে। 
 বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমে যে নামটি উঠে এসেছে তিনি হলেন অজয় হালদার। তিনি একজন হাই স্কুলের শিক্ষক। সর্বপরি তিনি একজন বিজেপি পরিবারের সন্তান। তাদের পরিবারের পরিচিতি তারা বিজেপি। তাইতো এই বিধানসভার বেশিরভাগ কর্মী সমর্থকরা তাকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন এখান থেকে। এই বিধানসভা তৃণমূলের জয় সম্ভাবনা ৭২ শতাংশ।

৫) রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভায় ২০২১ সালে বিজেপি খুবই সামান্য ভোট পেয়েছিল। গোলাম মডাশ্বের (Golam Modaswer ) ২৮৫২১ ভোট পেয়েছিলেন। আর তৃণমূলের আখরুজ্জামান  পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৩৪ ভোট। এই বিধানসভায় তৃণমূলের জয় সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ।
 এখান থেকে তৃণমূল হয়তো পুনরায় আখরুজ্জামান কে প্রার্থী করবে। বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে  যুবনেতা রাহুল ঘোষের নাম শোনা যাচ্ছে। 

৬) জঙ্গিপুর বিধানসভা নির্বাচনে এখানে তৃণমূলের জাকির হোসেন পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৪৪ ভোট। বিজেপির সুজিত দাস পেয়েছিল ৪৩ হাজার ৯৬৪ ভোট। গত লোকসভা ভোটে এখানে খুব ভালো ফল হয়েছিল বিজেপির।  
 তৃণমূল হয়তো জাকির হোসেনকে পুনরায় এখান থেকে প্রার্থী করবেন। বিজেপি হয়তো মাফুজা খাতুন কে এখান থেকে প্রার্থী করতে পারে।
৭) ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে খরগ্রাম বিধানসভা থেকে তৃণমূলের আশিশ মার্জিত ৯৩ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়েছিল। 
 বিজেপির আদিত্য মৌলিক পেয়েছিল ৬০ হাজার ৬৮২ ভোট। এখান থেকে বিজেপি প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
 শাসক দল তৃণমূল এখান থেকে পুনরায় আশিস বাবুকে প্রার্থী করবেন হয়তো। 
 বিজেপিও হয়তো আদিত্য মৌলিককে প্রার্থী করবেন।  
 এই যে ফলাফল বিশ্লেষণ  থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় জঙ্গিপুর লোকসভা তৃণমূলের শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে এখানে SIR হলে বিভিন্ন বিধানসভায় তার প্রভাব পড়তে বাধ্য। 








করিমপুর বিধানসভায় বিজেপির সাংগঠনিক কারণে পুরানো কর্মীরা দিশেহারা।

কল্পতরু মিশ্র, দক্ষিণ বঙ্গ সংবাদ, করিমপুর - করিমপুর বিধানসভাটি বাংলাদেশ লাঘোয়া সীমান্তবর্তী এলাকা। প্রশাসনিক স্তরে 
৭৭ করিমপুর বিধানসভায় মোট ১৪টা অঞ্চল এবং ব্লক দুটো। এরমধ্যে করিমপুর ব্লক _১ এ আছে ৮টা অঞ্চল এবং করিমপুর ২ ব্লকে আছে ৬টা অঞ্চল। করিমপুর ১ ব্লকের অঞ্চল হল ১) করিমপুর-১ এবং করিমপুর-২ অঞ্চল। ২) জমশেরপুর অঞ্চল ৩) হরেকৃষ্ণপুর অঞ্চল। ৪) মধুগারি অঞ্চল। ৫) হোগলবাড়িয়া অঞ্চল। ৬) শিকারপুর অঞ্চল। ৭) পিপুলবাড়িয়া অঞ্চল। করিমপুর ২ নম্বর ব্লক এ অঞ্চল হল ১) ধোড়াদহ ১ অঞ্চল। ২) ধোড়াদহ ২ অঞ্চল। ৩) নতিডাঙ্গা ১ অঞ্চল। ৪) নতিডাঙ্গা ২ অঞ্চল। ৫) রহমতপুর অঞ্চল। ৬) মুরুটিয়া অঞ্চল।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষনা না হলেও শাসকবিরোধী দুই দলই তাদের প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে। প্রস্তুতিতে শাসক দল এগিয়ে থাকলেও বিরোধীরা ততটা এগিয়ে নেই। শাসক দলের জেলা সভাপতি নির্বাচন অনেক আগে হয়ে গেছে বিজেপিও তাদের জেলা কমিটি ঘোষণা করে দিয়েছে। রাজ্য সভাপতি এখনো তার কমিটি ঘোষণা করেনি। সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিবর্তনের পরেই হয়তো রাজ্য কমিটি গঠন হতে চলেছে। সূত্রের খবর অনেক পুরনো নেতৃত্বকে  রাজ্য কমিটি তে স্থান দেওয়া হচ্ছে এবার।বিজেপির বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন জেলাতে সাংগঠনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে জেলা ও মন্ডল কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে। 
বিশেষ করে নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় জেলা কমিটি এবং মন্ডল কমিটি গঠন নিয়ে  পুরনো কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ চরমে উঠেছে । বিধানসভা ভোটের এখনো এক বছরও আর বাকি নেই। কিন্তু সাংগঠনিক অবস্থা বিজেপির ততটা ভালো নয় করিমপুর বিধানসভায়। এখানে জেলা এবং মন্ডল স্তরে যে সমস্ত কার্যকর্তাদের পদে বসানো হয়েছে তার বেশির ভাগই সিপিএম ও তৃণমূল থেকে আসা বাদ দেওয়া নেতাদের কে। 
 করিমপুর বিধানসভাটি প্রশাসনিক দিক থেকে নদীয়া জেলার মধ্যে অবস্থিত। বিজেপির সাংগঠনিক জেলা মুর্শিদাবাদের অন্তর্গত করিমপুর বিধানসভাটি। যেটা করিমপুর বিধানসভার বিজেপি কার্যকর্তাদের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এমনকি এখানকার বিজেপির কার্যকর্তারা বিমাতৃসুলভ আচরণের শিকার হয়। 
 আর একই সমস্যার সম্মুখীন হয় তৃণমূল কার্যকর্তারাও।
 
 ২০১১সালে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসলেও এই বিধানসভাটি সিপিএমের দখলে ছিল।সেই সময় 
 ২০১১ সালে সিপিএমের সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ  তৃণমূলের রমেন্দ্র নাথ সরকারকে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো ভোটে পরাজিত করেছিলেন।
 ২০১১ সালে  তৃণমূলের মহুয়া মিত্রের কাছে সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ  পরাজিত হয়। ২০১৬সালে বিজেপির শুভাশিস ভট্টাচার্য ২৩ হাজারের মতো ভোট পেয়েছিল। যা মোট ভোটের প্রায় ১২ শতাংশ।
 ২০১৬ সালে সমনেন্দ্রনাথ ঘোষ তৃণমূলের কাছে হেরে যাওয়ার পরে তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগদান করেন। ২০২১ শে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন সমেরেন্দ্রনাথ ঘোষ।
 তৎকাল বিজেপিতে যোগদান করেই একজন সিপিএম বিধায়ককে  বিজেপি টিকিট দিয়েছে  সেটা এই বিধানসভার মানুষ তখন মন থেকে ব।মেনে নেয়নি। সেই সময় অনেক বিজেপির যোগ্য কার্যকর্তা রা ছিল যারা দীর্ঘদিন ধরে পার্টিটা করে আসছিল তাদের টিকিট না দিয়ে দল যে ভুল করেছিল  তার পরিণাম দল এখনো এখানে ভোগ করছে। সমর বাবুকে বিজেপির কার্যকর্তারা এখনো মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পরপর তিনবার তিনি ভোটে দাঁড়িয়ে চলেছেন। শুধুমাত্র ২০১১সালেই তিনি জয়লাভ করেছিলেন। 
 তৃণমূলের মহুয়া মিত্র এখান থেকে জয়লাভ করার পর  তিনি কৃষ্ণনগরের সাংসদ হয়ে যান।  উপনির্বাচনে  বিজেপির পক্ষ থেকে জয়প্রকাশ মজুমদারকে প্রার্থী করা,সেটাও ছিল ঐতিহাসিক ভুল। সেই ভুলের মাশুল গুনছে এই বিধানসভার বিজেপির কার্যকর্তারা। 

 আমাদের জনমেত সমীক্ষায় উঠে এসেছে  এই বিধানসভায় তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৬২%।
 বর্তমানে এখানে তৃণমূলের  বিমলেন্দু সিংহ রায়  বিধায়ক। তিনি এখানে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজারের কাছাকাছি ভোট পেয়েছিলেন বিমল বাবু। 
 শাসকদলের পক্ষ থেকে হয়তো  বিমলেন্দু সিংহ রায়কে পুনরায় প্রার্থী করা হতে পারে।  তবে এখানে তৃণমূলের  জেলা সভাপতি  এন্টি গ্রুপ  প্রচুরভাবে চেষ্টা করছে অন্য কাউকে প্রার্থী করার জন্যে।  
 বিজেপির পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি নাম এখানে  উঠছে ২০২৬ সালের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে।  
 তার মধ্যে প্রথমেই যে নামটি উঠে আসছে  তিনি হলেন মৃগেন কুমার বিশ্বাস। তিনি দীর্ঘদিনের বিজেপির কার্যকর্তা।  যুবক অবস্থায় RSS এর ছাত্র সংগঠন AVBPকরতেন মৃগেন বাবু।  জনমত সমীক্ষায় প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষের পছন্দের নাম  এই মৃগেন কুমার বিশ্বাস। কার্যকর্তাদের এবং কর্মীদের সমীক্ষায় প্রায় দুই তৃতীয়াংশ মানুষ  তাকে করিমপুর বিধানসভায় প্রার্থী হিসেবে চাইছে। 
 কিন্তু বিজেপির সাংগঠনিক জেলার  উচ্চ স্তরের কার্যকতাদের সঙ্গে তার সৎ ভাব খুবই কম। তিনি নেতাদের পছন্দের না হলেও  তিনি কর্মীদের এক নম্বর পছন্দের প্রার্থী।  
 কিন্তু এই বিধানসভার পাঁচটি মন্ডলের মধ্যে চারটি মন্ডল সভাপতি কে পরিবর্তন করে দেওঁয়া হয়েছে। যাদের কে করা হয়েছে  কিছু দিন আগে সিপিএম দল থেকে এসেছে,। বর্তমানের সিপিএম এর লোক গুলোই বর্তমানে বিজেপির সব পদে বসে আছি। বিশেষ করে বুথ সভাপতি,শক্তিপুঞ্জ,মন্ডল সভাপতি  এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে যদি সিপিএমের লোক থাকে তাহলে এলাকার মানুষ কখনো বিজেপিতে ভোট দেবে না।  তার কারণ ৩৪ বছরের অত্যাচার সাধারণ মানুষ ভোগ করেছে এদেরকে দেখলে মানুষের এমনিতেই ক্ষোভ চরমে ওঠে। 
 এখানকার বুদ্ধিজীবী মহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত অনুযায়ী,
২০২১ সালে যদি  এই মৃগেন কুমার বিশ্বাস কে প্রার্থী করা হতো তাহলে হয়তো ফল অন্য রকম হতে পারতো এখানে, এই মতামত জানা যায় এখানকার কার্যকর্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকে। 
 রাজ্য বিজেপির করিমপুর বিধানসভা  সাংগঠনিক বিষয়টা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। এইভাবে চলতে থাকলে এই বিধানসভাটা হয়তো কোনদিনই  দখল করতে পারবে না বিজেপি। 
 এই বিধানসভার ১৪টি অঞ্চলের বিজেপির পুরানো কার্যকর্তারা প্রায় বসে গেছে বললেই চলে। গুরুত্বপূর্ণ পদ গুলিতে সিপিএম থেকে আসা লোকজনদের কে বসানো হয়েছে। 
এরা দিনের বেলা বিজেপি, রাতে তৃণমূল আর গভীর রাতে সিপিএম।  
 ঘরোয়া বৈঠক হলে হলঘর ভরে যায়। আর যখন প্রকাশ্যে রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল করতে বলা হয় তখন এক জায়গায় ৫০ জন জোগাড় করা যায় না। 
 এই বিধানসভায় বিজেপির যে হাল হয়েছে সেটা বিজেপি সাংগঠনিক দোষের কারণেই হয়েছে। নদীয়া জেলাতে এবার বিজেপির ফল খুবই ভালো হতে যাচ্ছে কিন্তু করিমপুর হতে যাচ্ছে ব্যতিক্রম। তার জন্য দায়ী থাকবে ছেলে এবং রাজ্য বিজেপি। যারা এখানে বিজেপির নেতৃত্ব দিতে চায় তাদেরকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে এমন এমন নেতৃত্ব থেকে বসানো হয়েছে যারা ঘরে বসেই রাজনীতি শুরু করেছে। 
 এরা শাসক দলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে না , নিজের দলের কর্মী কার্যকর্তাদের সঙ্গে কূটনীতিতে ব্যস্ত। 
 এইজন্যে এই বিধানসভা জয়ের কাছাকাছি থাকলেও বিজেপির শেষ মুহূর্তে হেরে যাবে এখানে। 


 

বনগাঁ উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভায় প্রার্থীবদল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দীপান্বিতা ঘোষ ব্যানার্জি, বনগাঁ, দক্ষিণ বঙ্গ সংবাদ  - ২০২৬ সাল কি বিজেপি পাখির চোখ করেছে পশ্চিমবঙ্গ কে। পশ্চিমবঙ্গ কে দখল করার জন্য সর্বশক...