৭৭ করিমপুর বিধানসভায় মোট ১৪টা অঞ্চল এবং ব্লক দুটো। এরমধ্যে করিমপুর ব্লক _১ এ আছে ৮টা অঞ্চল এবং করিমপুর ২ ব্লকে আছে ৬টা অঞ্চল। করিমপুর ১ ব্লকের অঞ্চল হল ১) করিমপুর-১ এবং করিমপুর-২ অঞ্চল। ২) জমশেরপুর অঞ্চল ৩) হরেকৃষ্ণপুর অঞ্চল। ৪) মধুগারি অঞ্চল। ৫) হোগলবাড়িয়া অঞ্চল। ৬) শিকারপুর অঞ্চল। ৭) পিপুলবাড়িয়া অঞ্চল। করিমপুর ২ নম্বর ব্লক এ অঞ্চল হল ১) ধোড়াদহ ১ অঞ্চল। ২) ধোড়াদহ ২ অঞ্চল। ৩) নতিডাঙ্গা ১ অঞ্চল। ৪) নতিডাঙ্গা ২ অঞ্চল। ৫) রহমতপুর অঞ্চল। ৬) মুরুটিয়া অঞ্চল।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষনা না হলেও শাসকবিরোধী দুই দলই তাদের প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে। প্রস্তুতিতে শাসক দল এগিয়ে থাকলেও বিরোধীরা ততটা এগিয়ে নেই। শাসক দলের জেলা সভাপতি নির্বাচন অনেক আগে হয়ে গেছে বিজেপিও তাদের জেলা কমিটি ঘোষণা করে দিয়েছে। রাজ্য সভাপতি এখনো তার কমিটি ঘোষণা করেনি। সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিবর্তনের পরেই হয়তো রাজ্য কমিটি গঠন হতে চলেছে। সূত্রের খবর অনেক পুরনো নেতৃত্বকে রাজ্য কমিটি তে স্থান দেওয়া হচ্ছে এবার।বিজেপির বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন জেলাতে সাংগঠনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে জেলা ও মন্ডল কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে।
বিশেষ করে নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় জেলা কমিটি এবং মন্ডল কমিটি গঠন নিয়ে পুরনো কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ চরমে উঠেছে । বিধানসভা ভোটের এখনো এক বছরও আর বাকি নেই। কিন্তু সাংগঠনিক অবস্থা বিজেপির ততটা ভালো নয় করিমপুর বিধানসভায়। এখানে জেলা এবং মন্ডল স্তরে যে সমস্ত কার্যকর্তাদের পদে বসানো হয়েছে তার বেশির ভাগই সিপিএম ও তৃণমূল থেকে আসা বাদ দেওয়া নেতাদের কে।
করিমপুর বিধানসভাটি প্রশাসনিক দিক থেকে নদীয়া জেলার মধ্যে অবস্থিত। বিজেপির সাংগঠনিক জেলা মুর্শিদাবাদের অন্তর্গত করিমপুর বিধানসভাটি। যেটা করিমপুর বিধানসভার বিজেপি কার্যকর্তাদের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এমনকি এখানকার বিজেপির কার্যকর্তারা বিমাতৃসুলভ আচরণের শিকার হয়।
২০১১সালে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসলেও এই বিধানসভাটি সিপিএমের দখলে ছিল।সেই সময়
২০১১ সালে সিপিএমের সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ তৃণমূলের রমেন্দ্র নাথ সরকারকে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো ভোটে পরাজিত করেছিলেন।
২০১১ সালে তৃণমূলের মহুয়া মিত্রের কাছে সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ পরাজিত হয়। ২০১৬সালে বিজেপির শুভাশিস ভট্টাচার্য ২৩ হাজারের মতো ভোট পেয়েছিল। যা মোট ভোটের প্রায় ১২ শতাংশ।
২০১৬ সালে সমনেন্দ্রনাথ ঘোষ তৃণমূলের কাছে হেরে যাওয়ার পরে তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগদান করেন। ২০২১ শে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন সমেরেন্দ্রনাথ ঘোষ।
তৎকাল বিজেপিতে যোগদান করেই একজন সিপিএম বিধায়ককে বিজেপি টিকিট দিয়েছে সেটা এই বিধানসভার মানুষ তখন মন থেকে ব।মেনে নেয়নি। সেই সময় অনেক বিজেপির যোগ্য কার্যকর্তা রা ছিল যারা দীর্ঘদিন ধরে পার্টিটা করে আসছিল তাদের টিকিট না দিয়ে দল যে ভুল করেছিল তার পরিণাম দল এখনো এখানে ভোগ করছে। সমর বাবুকে বিজেপির কার্যকর্তারা এখনো মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পরপর তিনবার তিনি ভোটে দাঁড়িয়ে চলেছেন। শুধুমাত্র ২০১১সালেই তিনি জয়লাভ করেছিলেন।
তৃণমূলের মহুয়া মিত্র এখান থেকে জয়লাভ করার পর তিনি কৃষ্ণনগরের সাংসদ হয়ে যান। উপনির্বাচনে বিজেপির পক্ষ থেকে জয়প্রকাশ মজুমদারকে প্রার্থী করা,সেটাও ছিল ঐতিহাসিক ভুল। সেই ভুলের মাশুল গুনছে এই বিধানসভার বিজেপির কার্যকর্তারা।
আমাদের জনমেত সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই বিধানসভায় তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৬২%।
বর্তমানে এখানে তৃণমূলের বিমলেন্দু সিংহ রায় বিধায়ক। তিনি এখানে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজারের কাছাকাছি ভোট পেয়েছিলেন বিমল বাবু।
শাসকদলের পক্ষ থেকে হয়তো বিমলেন্দু সিংহ রায়কে পুনরায় প্রার্থী করা হতে পারে। তবে এখানে তৃণমূলের জেলা সভাপতি এন্টি গ্রুপ প্রচুরভাবে চেষ্টা করছে অন্য কাউকে প্রার্থী করার জন্যে।
বিজেপির পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি নাম এখানে উঠছে ২০২৬ সালের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে।
তার মধ্যে প্রথমেই যে নামটি উঠে আসছে তিনি হলেন মৃগেন কুমার বিশ্বাস। তিনি দীর্ঘদিনের বিজেপির কার্যকর্তা। যুবক অবস্থায় RSS এর ছাত্র সংগঠন AVBPকরতেন মৃগেন বাবু। জনমত সমীক্ষায় প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষের পছন্দের নাম এই মৃগেন কুমার বিশ্বাস। কার্যকর্তাদের এবং কর্মীদের সমীক্ষায় প্রায় দুই তৃতীয়াংশ মানুষ তাকে করিমপুর বিধানসভায় প্রার্থী হিসেবে চাইছে।
কিন্তু বিজেপির সাংগঠনিক জেলার উচ্চ স্তরের কার্যকতাদের সঙ্গে তার সৎ ভাব খুবই কম। তিনি নেতাদের পছন্দের না হলেও তিনি কর্মীদের এক নম্বর পছন্দের প্রার্থী।
কিন্তু এই বিধানসভার পাঁচটি মন্ডলের মধ্যে চারটি মন্ডল সভাপতি কে পরিবর্তন করে দেওঁয়া হয়েছে। যাদের কে করা হয়েছে কিছু দিন আগে সিপিএম দল থেকে এসেছে,। বর্তমানের সিপিএম এর লোক গুলোই বর্তমানে বিজেপির সব পদে বসে আছি। বিশেষ করে বুথ সভাপতি,শক্তিপুঞ্জ,মন্ডল সভাপতি এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে যদি সিপিএমের লোক থাকে তাহলে এলাকার মানুষ কখনো বিজেপিতে ভোট দেবে না। তার কারণ ৩৪ বছরের অত্যাচার সাধারণ মানুষ ভোগ করেছে এদেরকে দেখলে মানুষের এমনিতেই ক্ষোভ চরমে ওঠে।
এখানকার বুদ্ধিজীবী মহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত অনুযায়ী,
২০২১ সালে যদি এই মৃগেন কুমার বিশ্বাস কে প্রার্থী করা হতো তাহলে হয়তো ফল অন্য রকম হতে পারতো এখানে, এই মতামত জানা যায় এখানকার কার্যকর্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকে।
রাজ্য বিজেপির করিমপুর বিধানসভা সাংগঠনিক বিষয়টা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। এইভাবে চলতে থাকলে এই বিধানসভাটা হয়তো কোনদিনই দখল করতে পারবে না বিজেপি।
এই বিধানসভার ১৪টি অঞ্চলের বিজেপির পুরানো কার্যকর্তারা প্রায় বসে গেছে বললেই চলে। গুরুত্বপূর্ণ পদ গুলিতে সিপিএম থেকে আসা লোকজনদের কে বসানো হয়েছে।
এরা দিনের বেলা বিজেপি, রাতে তৃণমূল আর গভীর রাতে সিপিএম।
ঘরোয়া বৈঠক হলে হলঘর ভরে যায়। আর যখন প্রকাশ্যে রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল করতে বলা হয় তখন এক জায়গায় ৫০ জন জোগাড় করা যায় না।
এই বিধানসভায় বিজেপির যে হাল হয়েছে সেটা বিজেপি সাংগঠনিক দোষের কারণেই হয়েছে। নদীয়া জেলাতে এবার বিজেপির ফল খুবই ভালো হতে যাচ্ছে কিন্তু করিমপুর হতে যাচ্ছে ব্যতিক্রম। তার জন্য দায়ী থাকবে ছেলে এবং রাজ্য বিজেপি। যারা এখানে বিজেপির নেতৃত্ব দিতে চায় তাদেরকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে এমন এমন নেতৃত্ব থেকে বসানো হয়েছে যারা ঘরে বসেই রাজনীতি শুরু করেছে।
এরা শাসক দলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে না , নিজের দলের কর্মী কার্যকর্তাদের সঙ্গে কূটনীতিতে ব্যস্ত।
এইজন্যে এই বিধানসভা জয়ের কাছাকাছি থাকলেও বিজেপির শেষ মুহূর্তে হেরে যাবে এখানে।
No comments:
Post a Comment